অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বাংলা টিউটোরিয়াল স্টেপ বাই স্টেপ বিস্তারিত গাইডলাইন!!

0
181

ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং বা ঘরে বসে আয় করতে চান, এমন লোকের অভাব নেই। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এদিকে বেশি ঝুঁকছেন। পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি ঘরে বসে আয়ের একটি উৎস হতে পারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

এক নজরে বিস্তারিত:

  • 1 অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?
  • 2 অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • 3 যেভাবে শুরু করবেন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • 4 অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিশ সাইট থেকে আয় করবেন যেভাবে
  • 5 ধাপ ১:  আপনাকে লাভজনক নিশ নিতে হবে
  • 6 ধাপ ২ : আপনার প্রতিযোগীদের সম্পর্কে জানতে
  • 7 ধাপ ৩ : সঠিক ডোমেইন হোস্টিং যাচাই করা
  • 8 ধাপ ৫ : পুরো সাইট সেটআপ করা
  • 9 ধাপ ৬ : কনটেন্ট পাবলিশ করা
  • 10 ধাপ ৭ : On-Page SEO ডেভেলপ করা
  • 11 ধাপ ৮ : সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • 12 ধাপ ৯ : ভাল মানের Link Building করা
  • 13 ধাপ ১০ : কাঙ্ক্ষিত কনভার্সন রেট

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? 

প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে মানুষের কেনাকাটার জন্য এখন আর বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাসা বা অফিসে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ই কমার্স সাইট থেকে কেনাকাটা করতে পারেন। অনলাইনে অর্ডারকৃত পণ্য ক্রেতার হাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেয় ইকমার্স প্রতিষ্ঠান। ই কমার্স সাইটগুলো তাদের পণ্যের প্রসারের উদ্দেশ্যে অ্যাফিলিয়েট সুবিধা দিয়ে থাকে। আর মার্কেটাররা এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেরা মার্কেটিং করে আয় করে। এটাই হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। সহজে বলা যায়, আপনি অনলাইনে কোনো পণ্য বিক্রি করতে চাইলে সে প্রতিষ্ঠান আপনাকে তাদের পণ্যের একটা লিংক দিবে। আপনার দেয়া লিংকের মাধ্যমে কোন গ্রাহক যদি তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে এবং পণ্য ক্রয় করে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠান আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দেবে। এই কমিশনের মাধ্যমে অর্থ আয় করার মাধ্যকেই বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য প্রচলিত অনেকগুলো মার্কেটপ্লেস থাকলেও অ্যামাজান অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংকেই পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থানে রাখেন বেশিরভাগ মার্কেটার। কেননা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই কমার্স সাইট অ্যামাজন ডট কম (Amazon.com)। বিশ্বে সম্ভবত এমন কোন প্রোডাক্ট নেই যা অ্যামাজনে নেই। আমেরিকায় প্রতি আট জনের মধ্যে একজন মানুষের অ্যামাজনে অ্যাকাউন্ট আছে। একজন মার্কেটার অ্যামাজনের পণ্যের বিক্রি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং তার মাধ্যমে যে বিক্রি হয় তা থেকে কমিশন হিসেবে আয় করতে পারেন।

যেভাবে শুরু করবেন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বেশ কয়েকভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে কাজ শুরু করতে পারেন- সোশ্যাল সাইটে লিংকগুলো শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে, ল্যান্ডিং পেইজ তৈরির মাধ্যমে, ব্লগ সাইট বা ওয়েবসাইট তৈরির মাধ্যমে। সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো ওয়েবসাইট তৈরি করে কাজ করা। তবে গতানুগতিক ওয়েবসাইট থেকে এ ওয়েবসাইটের ধরন একটু আলাদা হবে। যখন আপনি অ্যামাজনের কোন প্রডাক্ট প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এবং সেখানে আপনার নির্ধারিত প্রডাক্টের বর্ণনাসহ যখন সেটা বিক্রির উদ্দেশ্যে দিবেন, তখন আপনার ওয়েবসাইটটিকে বলা হবে অ্যামাজন নিশ সাইট। অ্যামাজনের নিশ সাইটে একটি ছোট বিনিয়োগের উপর বড় অংকের আয় করা সম্ভব। আর এটি যদি হয় প্যাসিভ ইনকাম তাহলে তো কথাই নেই। প্যাসিভ ইনকাম হলো এমন আয় যেখানে আপনি সরাসরি সম্পৃক্ত না থেকেও আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করে রাখবেন এবং পরবর্তীতে সক্রিয়ভাবে কাজ না করা সত্ত্বেও আপনি আয় করতে থাকবেন। অ্যামাজন নিশ সাইট নিয়ে কাজ করে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। অনেকে মাসে কয়েক হাজার ডলারও ইনকাম করছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিশ সাইট থেকে আয় করবেন যেভাবে

নিশ সাইটের জন্য যা দরকারঃ
১। কি-ওয়ার্ড রিসার্চ
২। একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করা ও হোস্টিং সেট আপ
৩। ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল
৪। মানসম্মত কনটেন্ট
৫। ভাল মানের ব্যাকলিংক তৈরি করা
৬। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
৭। দরকারি পেজ সেটআপ
৮। কাঙ্খিত কনভার্সন রেট

প্রতিটি ধাপে কাজের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলোঃ

ধাপ ১:  আপনাকে লাভজনক নিশ নিতে হবে

নিশ সাইট থেকে আয়ের জন্য শুরুতে মার্কেট যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ অ্যামাজন সাইটটি দেখতে হবে। সেখানে হাজারো ধরনের প্রডাক্ট রয়েছে। সেগুলো থেকে বেছে ঠিক করতে হবে কোন ধরনের প্রডাক্ট নিয়ে কাজে নামবেন। প্রডাক্ট সিলেক্ট করার সময় তার রিভিউ দেখে মার্কেটে পণ্যটির বর্তমান অবস্থা বা কেমন চাহিদা আছে সেটা যাচাই করতে হবে। অ্যামাজন নিশ সাইটের জন্য কি-ওয়ার্ড নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ কারণ কি-ওয়ার্ড ভুল মানে নিশ সাইট থেকে কোন কমিশন আসবে না। তাই কি-ওয়ার্ড সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হবেন।

কি-ওয়ার্ড সঠিকভাবে সিলেক্ট করে নিস সাইটটিকে অপটিমাইজ করলে নিস সাইটটি র‌্যাংঙ্কিংয়ে চলে আসবে। আপনার সাইটটি র‌্যাংঙ্কিংয়ে আসার পর আপনাকে প্রডাক্ট নিয়ে কাজে নামতে হবে। কাজের শুরুতেই আপনাকে অ্যামাজনের বেস্ট সেলিং প্রডাক্টগুলো দেখতে হবে। প্রডাক্টগুলো দেখার সময় আপনার মাথায় কিছু আইডিয়া আসবে। আপনি যে ক্যাটাগরির প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান সেই ক্যাটাগরির কোন কোন প্রডাক্ট বেশি সেল হয়েছে তা দেখতে পারবেন। সেলিং এর উপর ভিত্তি করে আপনার প্রডাক্ট নির্বাচন করা সহজ হয়ে যাবে।

প্রডাক্ট নিবাচনের সময় যেসব বিষয় খেয়াল করতে হবে

১। আপনার মেইন নিশ/ কি-ওয়ার্ড এর সাথে মিল রেখে পণ্যের ক্যাটাগরি নির্বাচন করা।
২। নিশ এর জন্য পণ্য বাছাই করা।
৩। পণ্যের রিভিউ
৪। পণ্যের চাহিদা
৫। বিক্রির উপর আপনার কমিশন

কি-ওয়ার্ড গুলো যেভাবে নির্বাচন করতে পারেন:
Product Name/Keyword + Review
Product Name/Keyword + Reviews
Best + Product Name/Keyword
Cheap + Product Name/Keyword

যে ক্যাটাগরির প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন সেটার সাথে মিল রেখে কি-ওয়ার্ড নির্বাচন করুন। এজন্য একটু প্রতিযোগিতা করেই আপনাকে টপে আসতে হবে। অন্য কি-ওয়ার্ড দিয়েও আপনার নিশ সাইটটিকে টপে নিয়ে আসতে পারবেন কিন্ত প্রাপ্ত ট্রাফিক কোন কাজে আসবে না।

নিশ সাইটের ধারনা নেয়ার জন্য iWriter Profile, Niche Discover, TopTenReviews.com এবং অ্যামাজনের হাজারো প্রডাক্ট রিভিউ পড়তে পারেন। এভাবে আপনি লাভজনক নিশ প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যেন প্রডাক্টের বেশ কিছু রিভিউ থাকে আর দাম যেন বেশি হয়।

আপনি যে ধরনের প্রডাক্ট নির্বাচন করেছেন তার সাথে কিছু আনুসঙ্গিক প্রডাক্টও রাখার চেষ্টা করবেন। ধরুন, ফ্যাশন বিষয়ে নিশ সাইট নিলেন সেখানে ম্যান, ওমেন এর ড্রেস রাখবেন। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক প্রডাক্ট হিসেবে জুতার আইটেমও রাখার চেষ্টা করবেন। কি-ওয়ার্ড সিলেক্ট করার জন্য টুলস হিসেবে গুগল এডওয়ার্ডস বা লংটেইল প্রো প্লাটিনাম ব্যবহার করতে পারেন।

ধাপ ২ : আপনার প্রতিযোগীদের সম্পর্কে জানতে 

কী-ওয়ার্ড সিলেক্ট করার পরে আপনাকে পুরো মার্কেট যাচাই করতে হবে ও আপনার প্রতিযোগী সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকতে হবে। যে কী-ওয়ার্ডটি নিচ্ছেন যদি সঠিকভাবে সিলেক্ট করতে পারেন সেটা বুসিনেসের প্রসার করবে। ধরুন, অনলাইনে আপনি একটি মোবাইল  কিনবেন। আপনি মোবাইল লিখে সার্চ দিয়ে খুঁজবেন কোন মোবাইল কিনবেন। কিন্তু আরও ভাল করে বললে আপনি নকিয়া লুমিয়া ৫২০ ব্র্যান্ড এর মোবাইলের রিভিউ দেখলেন, তখন আপনি সেটা কেনার চেষ্টা করবেন।

দেখা যায়, মানুষ রিভিউ পড়েই প্রডাক্ট কেনে। আর এভাবে আপনি যত মানুষের মাঝে প্রডাক্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবেন, ততোই সেলস বাড়াতে পারবেন, যত মানুষ প্রডাক্টগুলো পছন্দ করবে- আপনি নিশ সাইট থেকে তত কমিশন পাবেন।

কোন প্রডাক্ট কিনতে সাধারণত মানুষ যেভাবে সার্চ করে :
Best/Top Rate + Product Name
Cheap + Product Name
Quality + Product Name
Product Name + For Sale
Product Name + Review/Reviews
Product Name + Coupon
Where Can I Buy + Product Name
Buy + Product Name
Best + Product Name + Review
Best + Product Name + Online
Best + Product Name + Year
VS/ Or/ Compare to + Product Name
তাই Best + Product type কি-ওয়ার্ডটা নিশ সাইটের প্রধান কীওয়ার্ড হিসেবে নেয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।

একটা নিশ সাইট এর জন্য সাধারণত –
১। সার্চ ভলিউম- 800 থেকে 3000 থাকতে হয়
২। KC নিশ্চিত ভাবে ৩০ এর নিচে হতে হবে (KC = Page Authority (PA) +/- Page Title Factor +/- Keywords in Domain Factor +/- Domain Length)
৩। প্রডাক্টটির মূল্যও বেশি হতে হবে < 100
৪। কোন বিশেষ সময় সিজনকে ধরে কী ওয়ার্ড না নেয়া
৫। এমন কোন প্রোডাক্ট নিতে হবে যা বছরের পর বছর ব্যবহার হয়

ধাপ ৩ : সঠিক ডোমেইন হোস্টিং যাচাই করা 

কী-ওয়ার্ড সিলেক্ট হয়ে গেলে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিতে হবে। ডোমেইন কেনার সময় লক্ষ্য রাখবেন : আপনার কীওয়ার্ড যেন এক না হয়। এটাকে এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন বলা হয়। এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন আগের মত আর শক্ত অবস্থানে নেই, এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন বা লঙ টেইল কীওয়ার্ড নিলে গুগল পেনাল্টি খাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই আনুষঙ্গিক প্রোডাক্ট বা আংশিক ম্যাচ ডোমেইন নেয়া ভালো। অর্থাৎ আপনার কীওয়ার্ডের সাথে আংশিক মেলে এরকম কিছু।

আপনার কী ওয়ার্ড যদি হয় best juicer machine আর আপনার সাইটের নাম যদি হয় bestjuciermachine.com এটা খুব একটা যুতসই কীওয়ার্ড হবে না। তার চেয়ে আপনি বরং এভাবে নিতে পারেন efficientjucinginfo.com। খেয়াল রাখবেন সাইটের নামটা যেন খুব রিসোর্সফুল হয়। ডোমেইন এক্সটেনশন .com নেয়াই ভালো কেননা ভিসিটররা সহজে এটা মনে রাখতে পারে।

আপনি Godaddy, Namecheap, Bluehost থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন হোস্টিং যেন স্লো না হয়, লোডিং স্পিড ফাস্ট হওয়া খুব জরুরি দুই কারণে-
১। আপনার সাইটকে র‌্যাংঙ্কিং করাতে হলে লোডিং স্পিড ভালো হতে হবে।
২। যদি আপনার সাইটের লোডিং স্পিড স্লো হয়, মানুষ আপনার অ্যাফিলিয়েট সাইট থেকে অ্যামাজন সাইটে যাবে না। অর্থাৎ সে অ্যামাজন সাইট থেকে কোন প্রডাক্ট কিনবে না।

হোস্টিং নিতে পারেন Hostgator বা bluehost থেকে, কারণ-
১। দাম তুলনামূলক কম
২। ওয়ার্ডপ্রেসের মতো SEO user friendly সাইটও bluehost কে রিকমেন্ড করে

ধাপ ৫ : পুরো সাইট সেটআপ করা 

সাইটের কন্টেন্ট, থিম, প্লাগিন ঠিক করতে হবে। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েশনের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস একটা বড় প্লাটফর্ম কারণ
১। Fast, Dynamic & Simple
২। Flexible for Content Managements
৩। No Big investment for setup
৪। Featured with Theme, plugin, add-ons

থিমের জন্য themeforest, mafiashare, envanto, AuthorityAzon, FocusBlog theme থেকে সুন্দর থিম নিতে পারেন। থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো আছে কিনা দেখে নিবেন-
১। Beautiful looking
২। Super Fast Loading Speed
৩। Mobile and Desktop user friendly
৪। WordPress Plugins For Niche Site
৫। High Quality Contents in Googles Eye

ধাপ ৬ : কনটেন্ট পাবলিশ করা

কনটেন্ট যদি নিজে লিখতে পারেন তবে খুব ভালো। না পারলে কনটেন্ট প্রোভাইডার থেকে লেখা নিতে পারেন। যেমন iwritter, contentmart, newscred ইত্যাদি।

সাধারণত নিশ সাইটের জন্য নিম্নোক্ত কনটেন্টগুলো হলেই হবে:
একটি মেইন আর্টিক্যাল/বায়িং গাইড: দুই হাজার থেকে তিন হাজার শব্দের মধ্যে
রিভিউ আর্টিক্যাল: দশ থেকে পনেরো টি, প্রতিটি আটশ থেকে বারশ শব্দের মধ্যে
ইনফরমেটিভ আর্টিক্যাল: সাত থেকে দশটি, প্রতিটি পাচশ থেকে বারশ শব্দের মধ্যে
মোটামুটি এই কয়েকটি আর্টিক্যাল হলেই যথেষ্ট।

মানুষ কি লিখে গুগলে সার্চ করে তা বুঝার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য প্রডাক্ট রিভিউ ছাড়াও আনুসঙ্গিক কনটেন্ট লিখতে হবে। এজন্য

১। প্রডাক্ট রিভিউ লিখতে হবে এইভাবে Top (product) for (Target Clients)
২। বায়িং গাইড বা ম্যানুয়াল
৩। লেখার মান এমন হবে যেন রিডার অ্যামাজনের সাইটে ড্রাইভ করে
৪। প্রতিযোগীদের লেখা দেখে তার চেয়ে ভাল মানের লেখা লিখতে হবে
৫। প্রডাক্টের সামারি, কাস্টমার ফিডব্যাক, প্রডাক্ট কম্পারিজন, প্রডাক্ট এক্সপেরিয়েন্স

কনটেন্ট বা আর্টিকেল লেখার জন্য Smallseotools, Duplicheker, Grammarly.com, Readability test, Headline checker tools সমূহ ব্যবহার করা যায়। বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল মার্কেটার Neil Patel এর মতে, কোন লেখার ৫০% মার্কেটিং বা আকৃষ্ট করার জন্য শিরোনাম আকর্ষণীয় হওয়া জরুরি। কী-ওয়ার্ড দিয়ে লেখা শুরু করতে হবে এটাও SEO friendly হওয়ার একটা অংশ।

ধাপ ৭ : On-Page SEO ডেভেলপ করা

একটা পেইজকে র‌্যাংঙ্কিং করানোর জন্য সেটার জন্য ২০০+ গুগল ফ্যাক্টর আছে। গুগলের একটি SEO টুলস Moz এর মতে, কোন পেইজের On Page SEO factors হল ৭০%। Meta Tag, Meta description, Url Links , H1-H3 title , robot.x ,Alt -Tag , Image এসব বিষয়ই ঠিক করতে হবে। প্রত্যেক কনটেন্টে অবশ্যই High Resolution ইমেজ হতে হবে। এবং সেটা যেন অবশ্যই অ্যামাজন প্রডাক্টের লিঙ্ক ব্যাক হয় অ্যামাজন সাইট থেকে কমিশন নেয়ার জন্য।

ধাপ ৮ : সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং 

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। নিশ প্রডাক্টের প্রচার ও প্রসারের জন্য সবচেয়ে সহজ মিডিয়া আর ভিজিটরদের খুব সহজেই নিস সাইটে ড্রাইভ করা যায় অ্যাড বা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে। খুব সহজে টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে নিশ প্রডাক্টটি সেল করা যায় ফেসবুক আর টুইটারের মাধ্যমে। নিশ সাইট মার্কেটিং করার জন্য এই দুটিই সবচেয়ে বড় দুটি মিডিয়া যা এক সাথে সোশ্যাল মিডিয়া ও সার্চ ইঞ্জিনের উপর খুব ভালো প্রভাব ফেলে।

ফেসবুকে small fb tools ব্যবহার করে টার্গেটেড গ্রুপকে বের করে মার্কেটিং করা যায়। যারা গ্রাফিক্সের কাজ জানেননা তাদের জন্য www.canva.com ওয়েবসাইটে গিয়ে info graphic image design করে নিশ প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং করা ও Twitter এর # tag ব্যবহার করে টার্গেটেড ফলোয়ার বাড়ানো যায়। এছাড়া Google Plus ও Pinterest business পেজ বানিয়ে নিশ প্রডাক্ট এর পোস্ট করা যায়। ভিডিও সাইট যেমন ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করে নিশ প্রডাক্ট এর আপডেট দেয়া ও ভিডিও মার্কেটিং করা যায় এবং Subscriber অপশন থেকে ভিউয়ার বাড়ানো যায়।

ধাপ ৯ : ভাল মানের Link Building করা 

ভাল মানের লিঙ্ক গুগল সহজে র‌্যাংঙ্কিং করে। এক কথায় যে নিশ সাইটের যত লিঙ্ক থাকবে গুগল তার সার্চ রেজাল্টে বেশি দেখাবে। যদি আপনার ভাল মানের ব্যাক লিঙ্ক থাকে তাহলে কেউ আপনার নিশ প্রডাক্ট লিখে সার্চ করলে আপনার সাইট সে দেখতে পাবে। গুগলের ৬৫% র‌্যাংঙ্কিং ফ্যাক্টরস ব্যাক লিঙ্ক এর সাথে সম্পর্কিত, যখন অন্য সাইটের সাথে আপনার সাইটের লিঙ্ক থাকবে সেটাকে গুগল আপনাকে অথরিটি দিবে যা নিশ সাইট র‌্যাংঙ্কিং করতে সাহায্য করবে।

ভাল মানের লিঙ্ক বিল্ডিং করতে হলে আপনি নিচের সাইট গুলোতে লিঙ্ক করতে পারেন :
Web 2.0 Sites
Article Directories
Social Media Sites
Social Bookmarking sites
Q&A Sites
Quality Web Directories
Forum posts in niche specific forums
Photo sharing sites
Infographic creation and distribution
Guest Posts
Blog outreach
Resource page link building

ধাপ ১০ : কাঙ্ক্ষিত কনভার্সন রেট 

কনভার্সন রেট হল সাইটের ভিজিটর কি পরিমাণ অ্যামাজন সাইট থেকে প্রডাক্ট কিনছে তার রেট, আপনার সাইট এর মাধ্যমে যত সেল হবে অর্থাৎ ভিজিটররা প্রডাক্ট কিনবে আপনি তত কমিশন পাবেন। আপনার নিশ সাইটে ভিজিটর আসছে কিন্ত যতক্ষণ না সে অ্যামাজন থেকে কোন প্রডাক্ট কিনছে আপনি কোন কমিশন পাবেন না। তাই অ্যামাজন সাইট ভিজিট করার জন্য মানে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক ক্লিক করে অ্যামাজন সাইট থেকে প্রডাক্ট কেনানোর জন্য আপনাকে কিছু জিনিস অনুসরণ করতে হবে। যেমন-

১। প্রডাক্ট রিভিউ এর শুরুতে বা শেষে call to action button in the “above the fold section” যোগ করুন
২। কন্টেন্ট এর মধ্যে Colored information box যোগ করুন
৩। প্রডাক্ট এর ইমেজ যেন ভালো মানের হয়
৪। Nice Looking Amazon Niche Site Conversion বাটন
৫। সাইট এর আউটলুক চেঞ্জ করা
৬। sniply.com এর মত পাওয়ারফুল সাইট attention গ্রাব করার জন্য ব্যবহার করা
৮। নিশ সাইট অনুসারে আপডেট Seo কন্টেন্ট
৯। Intensive পেইজ লিঙ্ক বিল্ডিং করা
১০। ইমেইল মার্কেটিং করা

এছাড়া আপনার এই নিশ সাইট পেইজে মানুষকে সাইন-আপ করার কথা বলতে পারেন। আকর্ষণীয় কোন অফার রাখতে হবে যাতে মানুষ সাইন-আপ করে, একে ইস্কুইযি পেজ (Squeeze Page) বলে। যাতে ‘Subscribe’ বাটন থাকে, ইস্কুইযি পেজে ভিসিটরকে কোন অফারের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভিসিটরকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ইনসেন্টিভ রাখতে পারেন। যেমন, অসাম প্রোডাক্ট, এক্সক্লুসিভ ভিডিও , Read before you buy … ইত্যাদি। ভিসিটর কে জানিয়ে দেয়া কি কারণে সে প্রডাক্টটা কিনবে যেমন
Why Should you learn before buying ….
10 Amazing features of ….product is here.
How nice to have this product ….

প্রডাক্ট এর ইমেজগুলি অফারের সাথে দেয়া যেতে পারে।

আপনার নিশ সাইটের অফারের জন্য ইমেইল প্রভাইড করে সাইন আপ করিয়ে অটোরেস্পন্ডারের মাধ্যমে সেই ই-মেইল আইডি নেয়া যায়।
এজন্য সাইটের জন্য একটি অটোরেস্পন্ডার কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। যেমন :
•MailChimp
•GetResponse
•AWeber
•Fluttermail

যেসব সাইটে বেশি পরিমানে সাবস্ক্রাইবার আছে তাদের পে করে সাবস্ক্রাইবারদের কাছে অফারটিকে উপস্থাপন করতে পারেন। আর এভাবে ইমেইলের মাধ্যমে আপনি কিছু ভিসিটর পাবেন। যাকে সোলো এড বলে। বহু ডিরেক্টরি ও ওয়েবসাইট রয়েছে যারা সোলো এড সার্ভিস সেল করেন।

সোলো এড প্রভাইডাররা তাদের সাবস্ক্রাইবারদের আপনার সাইটের হয়ে ই-মেইল করবে। তখন সেই সব সাবস্ক্রাইবাররা ঐ ই-মেইলের মাধ্যমে আপনার নিশ সাইটে ভিজিট করবে। যদি আপনার প্রডাক্ট ভালো লাগে তাহলে তারা সাইনআপ এর মাধ্যমে আপনার সাবস্ক্রাইবার হবে এবং আপানার নিশ প্রডাক্টটি অ্যামাজন থেকে কিনবে। এটি আপনার কাঙ্খিত কমিশনের দ্বার উন্মোচন করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here