অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ১০ টি ধাপ – এবার অ্যামাজনের আয় ঘরে বসেই

0
194

অ্যামাজন কেন এত জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট তার কারণ এটা ভোক্তাদের সুবিধার জন্য রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে যে পরিমাণ খরচ করে সেটা ওয়ার্ল্ডের অন্য ই-কমার্স সাইট দ্বারা সম্ভব হয়ে ওঠে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন মানুষের অ্যামাজনের অ্যাকাউন্ট আছে। দুনিয়াতে এমন কোনো প্রোডাক্ট নেই যা সম্ভবত আমাজনে নেই। মানুষ অ্যামাজনের কোনো প্রোডাক্টের নাম লিখে সার্চ করছে আর তখন আপনার নিশ সাইটটি প্রথমে আসছে, এখন নিশ সাইট থেকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে ট্রাফিক অ্যামাজন সাইটে যাবে। সে অ্যামাজন থেকে প্রোডাক্ট কিনল এর জন্য আপনি এটা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। কারণ অ্যামাজন সাইটে সে আপনার মাধ্যমে ভিজিট করছে। আর দেখা যায় যে আমাজনে একবার যায় সে কখনও একটা প্রোডাক্ট কিনে না সে একাধিক প্রোডাক্ট কিনবে, তাই সে যত প্রোডাক্ট কিনবে আপনি তার নির্দিষ্ট কমিশন পেয়ে যাবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আসতে হলে অবশ্যই বেশ সময় নিয়ে আসতে হবে। মাত্র এক দু’মাসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে খুবই ভালো কিছু করতে পারবেন না। তবে আপনি যদি যথাসাধ্য সময় দেন তাহলে অবশ্যই ভালো করতে পারবেন। অ্যামাজনের নিশ সাইট বা নিশ প্রোডাক্ট আসলে কিছু নির্দিষ্ট পণ্য বা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে কাজ করে, যা অন্যান্য গতানুগতিক ওয়েবসাইট থেকে আলাদা। সাধারণত একটি নিশ সাইটে প্রতিটি পণ্যের জন্য আলাদা আলাদা কন্টেন্ট থাকে। অ্যামাজন নিশ সাইট নিয়ে কাজ করে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে, এমন কি অনেকে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। আপনি চাইলে আজীবন এই সাইট থেকে ইনকাম করতে পারেন অথবা ৩ মাস পর বিক্রিও করে দিতে পারেন। সাধারণত কোনো সাইটের শেষ ৩ মাসের গড় ইনকাম যদি হয় ৫০০ ডলার তাহলে আপনি ওই সাইটটি ২৫-৩০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন মানে ৫০০x২৫=৫০০০ ডলার বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৪ লাখ টাকা। নিশ সাইটের জন্য মূলত দরকার কী-ওয়ার্ড রিসার্চ, একটি ডোমেইন নির্বাচন করা ও হোস্টিং সেটআপ করা, ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলমানসম্মত কন্টেন্টভালো মানের ব্যাকলিঙ্ক বিল্ডিংসোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ও কাক্সিক্ষত কনভার্সন রেট

অ্যাামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ১০ টি ধাপ - এবার অ্যামাজনের আয় ঘরে বসেই

আমি যদি ধারাবাহিকভাবে এর ধাপগুলো বর্ণনা করি তাহলে নতুনদের জন্য বিষয়টি ফলপ্রসূ হবে।

এক নজরে বিস্তারিত:

  • 1 ধাপ-১ঃ নিশ সিলেক্ট করা
  • 2 ধাপ-২ঃ প্রতিযোগী সম্পর্কে ধারণা
  • 3 ধাপ-৩ঃ ভাল মানের ডোমেইন হোস্টিং নির্বাচন
  • 4 ধাপ-৪ঃ সাইট ডিজাইন
  • 5 ধাপ-৪ঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কতিপয় থীমের তালিকা
  • 6 ধাপ-৬ঃ ভালো মানের কন্টেন্ট পাবলিশ করা
  • 7 ধাপ-৭ঃ অনপেজ অপটিমাইজেশন
  • 8 ধাপ-৮ঃ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • 9 ধাপ-৯ঃ ভালো মানের লিঙ্ক বিল্ডিং
  • 10 ধাপ-১০ঃ কনভার্সন রেট যাচাই করা

ধাপ-১ঃ নিশ সিলেক্ট করা

আপনাকে লাভজনক নিশ নিতে হবে। নিশ সাইট থেকে আয়ের জন্য শুরুতে অ্যামাজন সাইটটি দেখতে হবে। সেখানে রয়েছে হাজারও ধরনের প্রোডাক্ট। সেগুলো থেকে দেখে ঠিক করতে হবে কোন ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজে নামবেন। প্রোডাক্ট সিলেক্ট করার সময় সেটার রিভিউ দেখে মার্কেটে পণ্যটির বর্তমান অবস্থা বা কেমন চাহিদা রয়েছে সেটা যাচাই করতে হবে। অ্যামাজন নিশ সাইটের জন্য কী-ওয়ার্ড সিলেক্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ, কারণ কী-ওয়ার্ড ভুল মানে নিশ সাইট থেকে কোনো কমিশন আসবে না। তাই খুব সতর্ক হবেন কী-ওয়ার্ড সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে। কী-ওয়ার্ড সঠিকভাবে সিলেক্ট করে নিশ সাইটটিকে অপ্টিমাইজ করলে নিশ সাইটটি রাঙ্কিং এ চলে আসবে। আপনাকে প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার জন্য নেমে পড়তে হবে, কাজের শুরুতেই আপানকে অ্যামাজনের বেস্ট সেলিং প্রোডাক্টগুলো দেখতে হবে। কী-ওয়ার্ড সিলেক্ট করার জন্য টুলস হিসেবে গুগল কী-ওয়ার্ড প্লানার, কী-ওয়ার্ড রিভিলার বা লংটেইল প্রো পাটিনাম ব্যবহার করাতে পারেন।

ধাপ-২ঃ প্রতিযোগী সম্পর্কে ধারণা

আপনার প্রতিযোগীদের সম্পর্কে জানতে হবে। আপনার কী-ওয়ার্ডটি সিলেক্ট করার পরে আপনাকে পুরো মার্কেট যাচাই করতে হবে ও আপনার প্রতিযোগী সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে হবে। যে কী-ওয়ার্ডটি নিচ্ছেন যদি সঠিকভাবে সিলেক্ট করতে পারেন সেটা প্রসার করবে। একটা নিশ সাইটের জন্য সাধারণত ১। সার্চ ভলিউম ১০০০ থেকে ৪০০০ থাকতে হয়। ২। কী-ওয়ার্ড কম্পিটিশন নিশ্চিতভাবে ৩০-এর নিচে হতে হবে। ৩। প্রোডাক্টটির মূল্যও ১০০ ডলালের বেশি হতে হবে।

ধাপ-৩ঃ ভাল মানের ডোমেইন হোস্টিং নির্বাচন

সঠিক ডোমেইন হোস্টিং যাচাই করতে হবে। কী-ওয়ার্ড সিলেক্ট হয়ে গেলে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিতে হবে। এখন আপনি Godaddy, Namecheap, Bluehost থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন আর হোস্টিংটি যেন স্লো না হয়, লোডিং স্পিডটা ফাস্ট হওয়া খুব বেশি জরুরি।

ধাপ-৪ঃ সাইট ডিজাইন

সম্পূর্ণ সাইট সেটআপ করতে হবে। সাইটের কন্টেন্ট, থিম, প্লাগিন ঠিক করা। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস একটা বড় প্লাটফর্ম।

অ্যাামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ১০ টি ধাপ - এবার অ্যামাজনের আয় ঘরে বসেই

ধাপ-৪ঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কতিপয় থীমের তালিকা

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ নিস সাইট বানানোর জন্য প্রিমিয়াম থীম ব্যাবহার করা উচিত। তবে অবশ্যয় কিনে, তা না হলে পরে কপিরাইট জটিলতা, ম্যালয়ার এট্যাক, এড ওয়্যার এর বিড়ম্বনায় আপনাকে ফেলতে পারে পাইরেটেট থিম।
আবার ফ্রি থীমে না যাওয়ায় ভালো, কেননা আপনি থীম আপডেট নাও পেতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস ভার্শন আপডেট হবার পাশাপাশি থিম আপডেট করা লাগে। নয়তো আপনার সাইট স্পামার-হ্যকারদের প্রিয় খাবার হতে পারে 🙁 আর যেহেতু টাকা ইনকামের জন্য প্রজেক্ট করবেন তাই টাকা তো খরচ করতে হবেই হবে।তাই প্রিমিয়াম থিম ইউজ করেন।
পেইড থিম তালিকা
১. অথরিটি এজন > www.authorityazon.com/
৪. ইনফোকাস বাই থ্রাইভথিম > https://thrivethemes.com/themes/foc…
ফ্রি থিম তালিকা
যদিও আমি পেইড থিম রেকমেন্ড করি নিশ সাইটের জন্য। এরপরও কেউ ফ্রি থিমে সাইট করতে চাইলে এই থিমগুলো দেখতে পারেন।
১. http:// www.themelab.com /themes/ slipstream/
২. https:// wordpress.org/ themes/ sparkling/
৩. https:// wordpress.org/ themes/hueman/
৪. https:// wordpress.org/ themes/ignite/
বি: দ্র: আমি ব্যক্তিগতভাবে এগুলো ব্যবহার করিনি। কেবল ইন্টারফেইস দেখে সাজেশন দিলাম।

ধাপ-৬ঃ ভালো মানের কন্টেন্ট পাবলিশ করা

কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে। যদি নিজে কনটেন্ট লিখতে পারেন তবে খুব ভালো। না পারলে কনটেন্ট প্রোভাইডার থেকে লেখা নিতে পারেন। সাধারণত নিশ সাইটের জন্য নিুোক্ত কনটেন্টগুলো হলেই হবে- একটি মেইন আর্টিক্যাল/বায়িং গাইড : ২০০০ থেকে ৩০০০ শব্দের। রিভিউ আর্টিক্যাল : ১০ থেকে ১৫টি, প্রতিটি ৮০০ থেকে ১২০০ শব্দের। ইনফরমেটিভ আর্টিক্যাল : ৭ থেকে ১০টি, প্রতিটি ৫০০ থেকে ১২০০ শব্দের। মোটামুটি এই কয়েকটি আর্টিক্যাল হলেই যথেষ্ট। মানুষ আসলে কি লিখে গুগলে সার্চ করে তা জেনে মানুষের মন বুজতে হবে। এজন্য প্রোডাক্ট রিভিউ ছাড়াও আনুষঙ্গিক কন্টেন্ট লিখতে হবে। তার জন্য প্রোডাক্ট রিভিউ লিখতে হবে। বাইং গাইড বা ম্যানুয়াল, আনুষঙ্গিক কন্টেন্ট থাকবে, প্রোডাক্ট রিভিউ ছাড়াও লেখার মান এমন হবে যে রিডার যেন অ্যামাজনের সাইটে ড্রাইভ করে এবং প্রতিযোগীদের লেখা দেখে তার চেয়ে ভালো মানের লেখা লিখতে হবে।

ধাপ-৭ঃ অনপেজ অপটিমাইজেশন

অন-পেজ অপটিমাইজেশন করতে হবে। একটা পেইজকে রাঙ্কিং করানোর জন্য সেটার জন্য দুই শতাধিক গুগল ফ্যাক্টর রয়েছে। কোন পেইজ অন-পেজ অপটিমাইজেসন করা হল ৭০% নিশ্চিত হওয়া।

ধাপ-৮ঃ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

বর্তমান সময় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। নিশ প্রোডাক্টের প্রচার ও প্রসারের জন্য সবচেয়ে সহজ মিডিয়া আর ভিজিটরদের খুব সহজেই নিশ সাইটে ড্রাইভ করা যায়। অ্যাডের মাধ্যমে খুব সহজে ভিজিটরদের কাছে নিশ প্রোডাক্টটি সেল করা যায়। ফেসবুক আর টুইটার নিশ সাইট মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে বড় দুটি মিডিয়া যা একসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া ও সার্চ ইঞ্জিনের উপরে খুব ভালো প্রভাব ফেলে।

অ্যাামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ১০ টি ধাপ – এবার অ্যামাজনের আয় ঘরে বসেই

ধাপ-৯ঃ ভালো মানের লিঙ্ক বিল্ডিং

ভালো মানের লিঙ্ক বিল্ডিং করতে হবে। ভালো মানের লিঙ্ক গুগল সহজে রাঙ্কিং করে। এক কথায় যে নিশ সাইটের যত লিঙ্ক থাকবে গুগল সেটার সার্চ রেজাল্টে বেশি দেখাবে। এখন যদি কেউ আপনার নিশ প্রোডাক্ট লিখে সার্চ দেয় তাহলে আপনার সাইট সে দেখবে যদি আপনার ভালো মানের ব্যাক লিঙ্ক থাকে। ব্যাক লিঙ্ক নিয়ে মার্কেট এভারের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার আল-আমিন কবির বলেন, গুগলের ৬৫% রাঙ্কিং ফ্যাক্টর ব্যাক লিঙ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন অন্য সাইটের সঙ্গে আপনার সাইটের লিঙ্ক থাকবে সেটাকে গুগল আপনাকে অথরিটি দিবে যা নিশ সাইট রাঙ্কিং করতে সহযোগিতা করবে।

ধাপ-১০ঃ কনভার্সন রেট যাচাই করা

কাক্সিক্ষত কনভার্সন রেট। কনভার্সন রেট হল সাইটের ভিজিটর কী পরিমাণ অ্যামাজন সাইট থেকে প্রোডাক্ট কিনছে তার রেট। আপনার সাইটের মাধ্যমে যত সেল হবে অর্থাৎ ভিজিটররা প্রোডাক্ট কিনবে আপনি তত কমিশন পাবেন। কিন্তু আপনার নিশ সাইটে ভিজিটর আসছে কিন্তু যতক্ষণ না সে অ্যামাজন থেকে কোনো প্রোডাক্ট কিনছে আপনি কোনো কমিশন পাবেন না। তাই অ্যামাজন সাইট ভিজিট করার জন্য মানে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক এ ক্লিক করে অ্যামাজন সাইট থেকে প্রোডাক্ট কিনানোর জন্য আপনাকে কিছু জিনিস ফলো করতে হবে। এর মাধ্যমে আপনার ভিজিটর হয়ে আপানার নিশ প্রোডাক্টটি অ্যামাজন থেকে কিনবে যা আপনার কাঙ্ক্ষিত কমিশনের দ্বার উন্মোচন করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here