ই–কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির সম্পূর্ণ স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন!!

0
156

ই কমার্স বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন একটি নাম| জনপ্রিয়তা এবং সম্ভাবনার নতুন দিক তৈরী হবার  কারনে ধীরে ধীরে  নতুন উদ্যোক্তারা ই কমার্স এর সাথে জরিত হচ্ছেন । নতুন উদ্যোক্তাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়ায় ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা । সমস্যা গুলো এক নজরে দেখে নেয়া যাক ।

  1. Domain এর নাম পছন্দ করা
  2. কোন কম্পানি থেকে ডোমেইন কিনবেন ?
  3. কি হোস্টিং ই কমার্স এর জন্য ভাল হবে?
  4. ওয়েবসাইট কোন প্লাটফর্ম এ তৈরি করবেন ?
  5. ওয়েবসাইট এ কাজ করা
  6. ওয়েবসাইট এর নিরাপত্তা

ডোমেইন এবং হোস্টিং বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের এই পোস্টগুলো পড়তে পারেনঃ ডোমেইন এবং হোস্টিং টিউটোরিয়াল

ই–কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির সম্পূর্ণ স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন

এক নজরে বিস্তারিত:

  • 1 ই কমার্স ওয়েবসাইট এর জন্য ডোমেইন নেম পছন্দ করা
  • 2 ডোমেইন কোথায় কিনবেন ?
    • 2.1 ডোমেইন নেয়ার আগে যা যা জানা জরুরি
  • 3 কি হোস্টিং ইকমার্স এর জন্য ভাল হবে?
  • 4 তাহলে আপনার কোনটি ব্যাবহার করা উচিত ?
  • 5 ওয়েবসাইট কোন প্লাটফর্ম এ তৈরি  করবেন ?
  • 6 ডোমেইন হোস্টিং হল এবার আপনার ওয়েবসাইট  তৈরির পালা।
      • 6.0.1 ম্যাজেন্টো
      • 6.0.2 জেন-কার্ট
      • 6.0.3 ওএসকমার্স
      • 6.0.4 প্রেস্তা শপ
      • 6.0.5 ওপেন কার্ট
  • 7 ওয়েবসাইট এর নিরাপত্তা

ই কমার্স ওয়েবসাইট এর জন্য ডোমেইন নেম পছন্দ করা


একটি সুন্দর ডোমেইন নেম তৈরি করাটা হচ্ছে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ আপনার অথবা আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য । কারন একটি ডোমেইন নামের মাধ্যমেই আমরা সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পাই ।

ধরুন আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম “ওয়াল্টন” কিন্তু আপনি এখানে আপনার ডোমেইন নেম ওয়াল্টন না নিয়ে অন্য নাম গ্রহন করলেন যেমন মাইবিজনেস ডট কম এর ফলে আপনি প্রচুর সেল বা বিক্রয় এর দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন । অনেক সময় গ্রাহক বা ক্রেতা পন্যের নামের সাথেই সেই প্রতিষ্ঠানের নামটি কল্পনা করে অনলাইনে অনুসন্ধান করে এবং তার কিওয়ার্ড এর উপরে নির্ভরশীল ডোমেইনগুলোই সার্চ ইঞ্জিন প্রদর্শন করে থাকে এক্ষেত্রে আপনি নির্ঘাত প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ।

ডোমেইন নেম পছন্দ করার জন্য নিচের টিপস গুলো ফলো করবেন

  • দীর্ঘ ডোমেইন নাম মনে রাখা কঠিন তাই দীর্ঘ নয় এবং দর্শক তা সহজে মনে রাখতে পারে এমন একটি ডোমেইন পছন্দ করা উচিত । এক্ষেত্রে ৪-১০ অক্ষর এর ডোমেইন ভাল।
  • বিভ্রান্তিকর নয় এমন একটি নাম বাছুন। ধরুন আপনি মোবাইল নিয়ে ওয়েব তৈরি করতে চাচ্ছেন কিন্তু নাম দিয়েছেন অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের এক্ষেত্রে ডোমেইনটি গ্রাহকের কাছে বিভ্রান্তিকর হিসেবে নির্বাচিত হবে তাই এদিকটাতে লক্ষ্য রাখুন ।
  • .COM ডোমেইন খুজুন।
  • আপনার ডোমেইন avilable আছে কিনা জানতে এই ডোমেইন চেকার টুলস টি ব্যবহার করতে পারেন।

ডোমেইন কোথায় কিনবেন ?

একটি উক্তি আছে  Don’t put all your eggs in one basket ”  তাই ডোমেইন হস্টিং এক ই কোম্পানি থেকে না নেয়াই ভাল। তবে অতিরিক্ত বিশ্বস্ত হলে এক্ষেত্রে কথা ভিন্ন। আমার মতে ডোমেইন খুব ই বিশ্বস্ত কোম্পানি থেকে নেয়া উচিত। কারন কোন কারনে যদি ডোমেইন প্রভাইডার ডোমেইন টি নিয়ে যায় তাহলে আপনার কত বড় লস হবে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন । যাই হক আমার মতে একটি Trusted Domain Company হল godaddy  আপনি বাংলাদেশী প্রভাইডার এর কাছ থেকেও কিনতে পারেন ।ই কমার্স এর জন্য কোন মতেই ঝুকি নেয়া ঠিক কাজ হবেনা।

ডোমেইন সাধারনত ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। কোম্পানি ভেদে দাম ভিন্ন হয়। ডোমেইন এক বছরের জন্য নেয়া হয় এবং বছর শেষে রিনিউ করতে হয়।

ডোমেইন নেয়ার আগে যা যা জানা জরুরি

  • ডোমেইন প্রভাইডার আপনাকে ফুল কন্ট্রোল দিচ্চে কিনা
  • আপনাকে EPP code বা সিক্রেট কোড দিচ্ছে কিনা
  • বছর শেষে অতিরিক্ত রিনিউ চার্জ নিচ্চে কিনা
  • ডোমেইন এর সাথে অতিরিক্ত কি কি পাওয়া যাচ্ছে

কি হোস্টিং ইকমার্স এর জন্য ভাল হবে?


হোস্টিং বলতে বুঝায় আপনার ওয়েবসাইট এর ডাটা / ইমেজ / ভিডিও যেই ভার্চুয়াল স্টোরেজএ জমা থাকবে । বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বলব অবশ্যই  বাংলাদেশ থেকে হোস্টিং নিবেন যাতে দ্রুত ফন সাপোর্ট পাওয়া যায়। । হোস্টিং বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে যেমনঃ

  1. Shared Hosting
  2. Cloud Hosting
  3. VPS Hosting
  4. Dedicated Hosting

Shared Hosting : ই কমার্স এর জন্য কখনই আমি Shared Hosting কে সাপোর্ট করিনা যদিও Shared Hosting দাম সব থেকে কম । কেন Shared Hosting উপযুক্ত না ?

  • পারফর্মেন্স স্লো হয় ।
  • একটু ভিজিটর আসলেই সারভার ডাউন হয়ে যায়
  • CPU বাবহারে লিমিট থাকে, লাইভ ভিসিটর একটু বেশি হলে সাইট temprary unavilable হয়ে যায়

সাধারনত বাংলাদেশে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৮০০০ টাকায় ও হোস্টিং  পাওয়া যায়  ( মাসিক / বাৎসরিক )  সস্তার ৩ অবস্থা তাই সস্তা না খুজে ভাল হোস্টিং খুজুন। কারন ১ মিনিট সাইট অফ থাকলে আপনার প্রচুর কাস্টমার হারাবেন।

Cloud Hosting:  ই কমার্স এর জন্য আমার প্রথম ও শেষ পছন্দ ক্লাউড হোস্টিং । কারন ক্লাউড হোস্টিং এ আপনার সাইট একটি সার্ভার এর ভিতর সিমাবদ্ধ থাকেনা। বিভিন্ন লোকেশন এর ভিন্ন ভিন্ন  সার্ভার এ আপনার সাইট সাইট হোস্ট করা থাকে যার কারনে যদি  একটি সার্ভার কোন কারনে ক্রাশ করে তৎক্ষণাৎ অপর সার্ভার থেকে সাইট চালু হয় ।

এর আরেকটি সুবিধা হল  স্কেলেবিলিটি অর্থাৎ যেখানে অতিরিক্ত ট্রাফিকের সময় অটোমেটিক আপনার জন্য বরাদ্দকৃত রিসোর্স বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ হঠাৎ যদি আপনার সাইটে ট্রাফিক স্পাইক করে, কোন কারণে প্রচুর ভিজিটর একই সময়ে প্রবেশ করে তখনও আমাদের ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং লোড ব্যালেন্সিং এর কারণে আপনি থাকছেন নিশ্চিন্ত।  আপনার সাইট অফলাইন হচ্ছেনা। ক্লাউড এর ছোট প্যাকেজ কোন হোস্টিং কোম্পানি প্রভাইড করেনা তবে মিনিমাম ১ জিবি এর দাম ৪০০ টাকা এবং ৫ জিবি এর দাম ১২০০ টাকা থেকে শুরু এবং আমি সরবচ্চ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখেছি ( মাসিক )

VPS : ভি পি এস মানে হল ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার। যখন একটা কম্পিউটার কে বিশেষ কোন সফটওয়্যার বা অন্য কিছু দিয়ে ভাগ করে অনেক গুলো সার্ভার তৈরি করা হয় তখন প্রত্যেক ভাগকে এক একটা  ভি পি এস বলে। আশা করি বুঝতে পারছেন। তবে এটাও ডাউন হয়। এবং মানেজ করা কষ্টসাধ্য ।

তবে ই কমার্স এর জন্য ব্যবহার করা যায় ।  ভালো ভিপিএস সার্ভার এর দাম মাসিক মূল্য ৪৫০০ টাকা থেকে শুরু ।

Dedicated Hosting: যখন একটা কম্পিউটার পুরটাই একটা সার্ভার হিসাবে ব্যবহার করা হয় তখন এটাকে বলে ডেডিকেটেড সার্ভার। আর এই ডেডিকেটেড সার্ভার এর হোস্টিং কে আমরা বলি ডেডিকেটেড হোস্টিং। অনেক কঠিন করে বলা যায় তবে মুল কথা এইটাই।  Dedicated Hosting ও ই কমার্স এর জন্য উপযোগী অসুবিধা যেটা আছে তা হল এই সার্ভার এও আপ টাইম এর নিশ্চয়তা দেয়া জায় না। এবং দাম খুব বেশি ভাল ডেডিকেটেড সার্ভার এর দাম ৭০০০ থেকে শুরু  ( মাসিক )

তাহলে আপনার কোনটি ব্যাবহার করা উচিত ?


ই কমার্স এর জন্য হোস্টিং হিসেবে আমি ক্লাউড কেই উপযুক্ত মনে করি কারনঃ

  1. খরচ কম
  2. স্কেলাবিলিটি
  3. আপটাইম
  4. হাই স্পীড সার্ভার

তবে এখানে প্রধান সমস্যা হল প্রায় ৮০ শতাংশ ক্লাউড হোস্টিং প্রভাইডার রাই ক্লাউড এর নামে KVM হোস্টিং প্রদান করে।  তাই ইউজার দের থেকে জেনে নিতে পারলে ভালো হয় প্রভাইডার এর সার্ভিস সম্পর্কে।

ই–কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির সম্পূর্ণ স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন

ওয়েবসাইট কোন প্লাটফর্ম এ তৈরি  করবেন ?


ডোমেইন হোস্টিং হল এবার আপনার ওয়েবসাইট  তৈরির পালা।

ইকমার্স ওয়েব সাইট তৈরির সেরা ৬ টি উপায় নিয়ে।

Woocommerce : এটি একটি wordpress plugin নতুন রা খুব সহজেই এটি ব্যাবহার করতে পারেন । কোন কোডিং ডাটাবেস জ্ঞান ছারাই সুধু মাত্র প্লাগিন টি এক্তিভ করেই আপনি পাবেন ই কমার্স এর সকল সুবিধা । এর ফলে আপনি WP এর মাধ্যমে আকর্ষণীও করে সাইট তৈরি করে নিতে পারেন ।

ম্যাজেন্টো

বর্তমানে ইকমার্স সাইটের জন্য ব্যাবহারিত সিএমএসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ম্যাজেন্টো। এটি একটি ফ্রি ওপেন সোর্স সিএমএস। এটি Zend Framework এ তৈরি করা হয়েছে। এই সিএমএসটিতে রয়েছে ইকমার্স ওয়েব সাইট তৈরি জন্য সময় উপযোগী নানা ধরনের ফিচার।

ম্যাজেন্টোর অনেক ফ্রি এবং প্রিমিয়াম থিম এবং প্লাগইন রয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে ফ্রি ম্যাজেন্টো থিম এবং প্লাগইন দিয়ে আপনার ইকমার্স ওয়েব সাইট তৈরি করতে পারেন।আপনি চাইলে মার্কেটপ্লেস থেকে ম্যাজেন্টোর প্রিমিয়াম থিম এবং প্লাগইন কিনেও আপনার ইকমার্স ওয়েব সাইট তৈরি করতে পারেন। ম্যাজেন্টোর ওয়েবসাইট – magentocommerce.com

জেন-কার্ট

ওপেন সোর্স ষ্টোর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে যে (CMS) সিএমএসটি সেটা হল জেন-কার্ট। জেন-কার্ট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট – zen-cart.com

ওএসকমার্স

ওপেন সোর্স কমার্স বা ওএসকমার্স এর শীর্ষ জনপ্রিয় অনলাইন ষ্টোর ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এটি। ওয়েবসাইট – oscommerce.com

প্রেস্তা শপ

এটি সম্পূর্ণ ফ্রি একটি ওপেন সোর্স সিএমএস। পেস্তা শপ এর যাত্রা শুরুর অল্প কিছু দিনের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রেস্তা শপ এর মুল আকর্ষণ হল এর আকর্ষণীয় ডিজাইন। যা প্রায় অন্য কোন সিএমএস এ দেখা যায় না বললেই চলে। ওয়েবসাইট – prestashop.com

ওপেন কার্ট

সহজে ব্যাবহার যোগ্য এবং আকর্ষনীয় ডিজাইনের ওপেনসোর্স শপিং কার্ট সকটওয়্যার গুলোর মধ্যে ওপেন কার্ট (Open Cart) অন্যতম। ওয়েবসাইট – opencart.com

আপনি যদি সহজে বাবসা পরিচালনা করতে চান তাহলে Woocommerce / Open Cart ব্যাবহার করাই ভালো হবে।
নিজেই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন তবুও  না পারলে প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে সাইট দিজাইন করিএ নিতে পারেন।

ওয়েবসাইট এর নিরাপত্তা


এই পয়েন্ট এ আমাদের সবার ই আগ্রহ কম থাকে। আপনি যে প্লাটফর্ম এই সাইট তৈরি করেন না কেন তার সরবচ্ছ সিকুরিটি ব্যাবহার করার চেষ্টা করুন।  আজকাল স্কুল পরুয়া শিক্ষার্থীরাও  ডিডস এটাক করতে পারে সাইট এ তাই

  • আপনি যেই হোস্টিং ই ব্যাবহার করেন না কেন সাথে CDN Service ব্যাবহার করতে পারেন। Max CDN প্রিমিয়াম এর ভিতর ভালো । তবে CloudFlare ও ব্যাবহার করতে পারেন।
  • শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করুন
  • Site Lock সার্ভিস ব্যাবহার করতে পারেন
  • ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাবহার করলে WP Security প্লাগিন টি ব্যাবহার করতে পারেন

নতুন দের জন্য চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব সহজে গাইড লাইন দেয়ার। কারো কিছু জানার থাকলে নির্দ্বিধায় কমেন্ট করতে করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here